www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

গরু মোটাতাজাকরণ প্রযুক্তি

 এগ্রোভিশন ডেস্ক    [ ১ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, ১২:২৭   প্রাণিসম্পদ বিভাগ]



বাংলাদেশে গরুর মাংস খুব জনপ্রিয় এবং চাহিদাও প্রচুর। তাছাড়া কুরবানীর সময় অনেক গরু জবাই করা হয়। সূতরাং ‘গরু মোটাতাজাকরণ’ পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক ব্যবসা।

গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় ধারাবহিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হব তা নিম্নরুপ:

০১. পশু নির্বাচন, ০২. কৃমিমুক্তকরণ ও টিকা প্রদান , ০৩. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ০৪. বাজারজাতকরণ।

০১. পশু নির্বাচন : মোটাতাজাকরণ কর্মসূচীর জন্য গরু ক্রয়ের সময় প্রধান দুটি বিবেচ্য বিষয় হলো বয়স ও শারীরিক গঠন।

ক. বয়স নির্ধারণ: মোটতাজা করার জন্য সাধারনত ২ থেকে ৫ বছরের গরু ক্রয় করা যেতে পারে, তবে ৩ বছরের গরু হলে ভাল।

খ. শারীরিক গঠন : মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত গরুর দৈহিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রেখে গরু নির্বাচন করা জরুরী।

• দেহ হবে বর্গাকার ।
• গায়ের চামড়া হবে ঢিলা ( দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে টান দিয়ে দেখতে হবে)।
• শরীরের হাড়গুলো আনুপাতিকহারে মোটা, মাথাটা চওড়া, ঘাড় চওড়া এবং খাটো।
• পাগুলো খাটো এবং সোজাসুজিভাবে শরীরের সাথে যুক্ত।
• পিছনের অংশ ও পিঠ চওড়া এবং লোম খাটে ও মিলানো ।
• গরু অপুষ্ট ও দূর্বল কিন্তু রোগা নয়।

০২. কৃমিমুক্তকরণ: পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত করা উচিত। তবে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম টাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

০৩. টিকা প্রদান: পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।

০৪. ঘর তৈরী ও আবসন ব্যবস্থাপনাঃ আমাদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারনত আধুনিক সেড করার প্রয়োজন পড়েনা। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিস্কার করা যায় সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরী করতে হবে।

০৫. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ গরু মোটতাজাকরণে দুই ধরনের খাদ্যের সমন্বয়ে রশদ (রেশন) তৈরী করা হ হয়।

• আঁশ জাতীয়ঃ শুধু খড়, ইউ এম, সবুজ ঘাস ইত্যাদি । তবে এই প্রক্রিয়ায় খামারীদেরকে শুধু খড়ে পরিবর্তে ইউ এম এস খাওয়াতে হবে।

• দানাদারঃ খৈল, ভূষি, চাষের কুড়া , খুদ, শুটকি মাছ, ঝিনুকের গুড়া, লবন ইত্যাদি।
খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী, অর্থাৎ গরু যে পরিমান খেতে পারে সে পরিমান ইউ এম এস সরবারাহ করতে হব।

• কোন খামারী সবুজ ঘাস খাওয়াতে চাইলে প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা ঘাসের সাথে ৩ কেজি চিটাগুড়ে মিশিয়ে তা গরুতে খাওয়াতে পারেন। এক্ষেত্রে কাঁচা ঘাসেও গরুকে পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে হবে।

খ . দানাদর মিশ্রণঃ খামারীদের সবিধার জন্য নীচের সারনীতে একটি দানাদার মিশ্রণ তৈরীর বিভিন্ন উপাদান পরিমান সহ উল্লেখ করা হল। নিম্নের ছক অনুযায়ী অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী খামারীগণ বিভিন্ন পরিমান মিশ্রণ তৈরী করে নিতে পারবেন।

• খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। পাশের দানাদার মিশ্রণটি গরুর ওজনের শতকরা ০.৮-১ ভাগ পরিমান সরবরাহ করলেই চলবে।
• খাওয়ানোর সময়ঃ দানাদার মিশ্রণটি এবারের না খাইয়ে ভাগে ভাগ করে সকালে এবং বিকালে খাওয়াতে হবে।
• পানিঃ গরুকে পর্যান্ত পরিমানে পরিস্কার খামার পানি সরবরাহ করতে হবে।

০৬. দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় গরুকে দৈহিক ওজন নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে।

গরুর ওজন নির্নয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল জায়গায় দাড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক ফিতা দ্বারা দৈর্ঘ্য ও বুকের বেড়ের মাপ নিতে হবে। এই মাপ নীচের সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে।

দৈর্ঘ্য × বুকের বেড় (ফুট) × বুকের বেড় (ফুট) ....................................... = ওজন (কিলোগ্রাম) ৬.৬০

উপসংহারঃ উপরে বর্নিত পদ্বতি অনুযায়ী পালন করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরন করে বাজারজাত করা সম্ভব।




 এ বিভাগের আরও


 আজ বিশ্ব প্রাণী দিবস


 বার্ড ফ্লু ও ব্রঙ্কাইটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বিভিসিসির ওয়েবিনার শনিবার


 মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার


 "বঙ্গবন্ধু এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এলইও পরিষদ,এলডিডিপি" এর কমিটি গঠিত


 ডেয়রী খাতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব


 চলে গেলেন দেশের প্রতিথযশা ভেটেরিনারিয়ান ডা মো মাতলুবুর রহমান


 বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর শোক


 H9N2 ভ্যাকসিন বিপণন শুরু করল এসিআই এনিমেল হেলথ্


 ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নে সরকার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


 বিপন্ন প্রজাতির বাংলা শকুন উদ্ধার করলো সিকৃবির ‘প্রাধিকার’


 দিনাজপুরে খামারে আগুনে পুড়ল ৪৫ ছাগল


 বিড়ালের জন্য এতিমখানা


 লাইভস্টক অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিভাসু'র অধ্যাপক ড.বিবেক চন্দ্র


 খাদ্যে বিষক্রিয়ায় খামারির সাত গরুর মৃত্যু


 ক্লান্তিতে গাছ থেকে পড়ে গেল পাঁচটি শকুন





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019