www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

পোল্ট্রি শিল্পের নতুন দিগন্ত টার্কি পালনে বেকারত্ব ঘুচবে

 এগ্রোভিশন ডেস্ক    [ ১ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, ১২:৫৮   সম্পাদকীয়  বিভাগ]



পোল্ট্রির ১১টি প্রজাতির মধ্যে টার্কি অন্যতম। এটি এক ধরনের বড় আকৃতির পাখি বিশেষ। দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও আকারে তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। টার্কি পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামো দরকার হয় না। কম খরচে টার্কি পালনে সহজেই সাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উন্নত উৎপাদন দক্ষতা, উন্নততর পরিচালনা ও রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ।

পাখির মাংস হিসেবে এটা মজাদার এবং কম চর্বিযুক্ত এবং এটি মাংস উৎপাদনের দিক থেকে ৬ মাস বয়সে ৫-৬ কেজি পর্যন্ত হয়। তাই এটি হতে পারে মাংসের অন্যান্য মাংসের পরিপূরক। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।

টার্কি মূলত মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি এবং নিবিড় পালন পদ্ধতি এই দুইভাবে পালন করা যায়। মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে এক একর ঘেরা জমিতে ২০০-২৫০টি পূর্ণ বয়স্ক টার্কি পালন করা যায়। ছায়া ও শীতল পরিবেশ জোগানের জন্য খামারে গাছ রোপণ করতে হবে। চারণভূমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করতে হবে এতে পরজীবীর সংক্রমণ কম হয়। এ পদ্ধতির সুবিধা হলো খাবারের খরচ প্রায় অর্ধেক কম লাগে যা স্বল্প বিনিয়োগে খরচের তুলনায় লাভের হার বেশি হয়।

অন্যদিকে নিবিড় পালন পদ্ধতিতে টার্কির বাসস্থান রোদ, বৃষ্টি, হাওয়া, শিকারি জীবজন্তু থেকে বাঁচায় ও আরাম জোগায়। অপেক্ষাকৃত গরম অঞ্চলগুলোতে খামার করলে ঘরগুলো লম্বালম্বি পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাখতে হবে। ডিপ লিটার পদ্ধতিতে টার্কি পালনের সাধারণ পরিচালনা ব্যবস্থা মুরগি পালনেরই মতো, তবে বড় আকারের পাখিটির জন্য যথাযথ বসবাস, ওয়াটারার ও ফিডারের জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে টার্কি খুব ভালোভাবে আবর্জনা খুঁটে খায় বলে এরা কেঁচো, ছোট পোকামাকড়, শামুক, রান্নাঘরের বর্জ্য ও উঁইপোকা খেতে পারে। এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান প্রোটিন ৫০ শতাংশ খাবারের খরচ কমিয়ে দেয়। এছাড়া শিম জাতীয় পশুখাদ্য যেমন- লুসার্ন, ডেসম্যান্থাস, স্টাইলো এসব খাওয়ানো যায়। খাবারের খরচ কম করার জন্য শাকসবজির বর্জ্য অংশও ব্যবহার করা যায়।

তবে নিবিড় পালন পদ্ধতিতে খাবার মাটিতে না দিয়ে ফিডারে দিতে হবে। এক্ষেত্রে পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে ৩০-৪০ গ্রাম হারে ঝিঁনুকের খোসার গুঁড়া দিতে হবে এবং খাবারে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা আস্তে আস্তে করতে হবে।

তবে টার্কি পালনে এর অভ্যন্তরীণ (গোল কৃমি) ও বাহ্য (ফাউল মাইট) পরজীবী সংক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই পাখিদের ভালো বিকাশের জন্য মাসে একবার ডিওয়ার্মিং ও ডিপিং করতে হয়।





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019