www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের শীর্ষে থাকতে পারে ভেটেরিনারি

 এস এ    [ ৮ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:২৬   মতামত বিভাগ]



বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির একটি বড় অংশ হচ্ছে প্রাণিসম্পদ সেক্টর। সুস্থ স্বাভাবিক জাতি গঠন, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এমন কি দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে সেক্টরটি। সুতরাং কৃষিক্ষেত্রে আমূল উন্নয়নের জন্য প্রাণিসম্পদের উন্নয়নও অপরিহার্য। আর প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে প্রয়োজন দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান। প্রাণি চিকিৎসকরাই সাধারণত ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে পরিচিত। প্রাণি চিকিৎসকরা বিভিন্ন গবেষণা, বিভিন্ন প্রাণীর নতুন জাত উদ্ভাবন ও জাত উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন- দুগ্ধ উৎপাদন, ডিম উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

বিশ্বে যতগুলো বিষয় আছে তার মধ্যে ভেটেরিনারি একটি সর্বজন স্বীকৃত চাহিদাপূর্ন বিষয়। এক সময় মানুষজন বাড়িতে ছোট পরিসরে হাঁস মুরগী পালন করতেন। জনসংখা বৃদ্ধি এবং আবাদি জমির পরিমান কমে যাওয়ায় এখন দেশী ও বিদেশি উদ্যোগে গড়ে উঠছে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি, মিট ইন্ডাস্ট্রি ও মিল্ক ইন্ড্রাস্টি। সৃষ্টি হচ্ছে ভেটেরিনারিয়ানদের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। বাংলাদেশে ভেটেরিনারি শিক্ষা সম্পর্কে একসময় সাধারণ মানুষের ধারণা কম ছিল, তবে বর্তমানে দেশে ভেটেরিনারিয়ানদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং কাজের পরিধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনথ্রাক্স, বার্ডফ্লু প্রভৃতির মতো ভয়াবহ জেনেটিক রোগের প্রাদুর্ভাবের ফলে ভেটদের চাহিদাও এখন প্রচুর। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ভেটেরিনারি অত্যন্ত পরিচিত একটা বিষয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এ দেশে এ পেশার যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও লোকজন ততটা সচেতন নন। ১৮ কোটি মানুষের এ দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আরো গুরত্বসহকারে সম্পৃক্ত না করতে পারলে পুষ্টি, খাদ্য সমস্যার সমাধান, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি কোনটা সম্ভব নয়।

সৃষ্টির উষালগ্ন সেই আদিকাল হতে আদিম বনবাসী, গুহাবাসী মানুষ সভ্যতার আলো দেখেছিল পশুপাখির হাত ধরে। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী, বছরের পর বছর মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে (যেমন- যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, খাদ্যে নির্ভরতা, সৌর্ন্দয্য চর্চা, একাকিত্বেও বন্ধু, পাহারাদারি, অব্যর্থ গোয়েন্দাগিরি ইত্যাদি) পশুপাখি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য সবার আগে প্রয়োজন লাইভস্টক এগ্রো-বেস্ড রেভোলুশন। এই গুরুত্বপূর্ণ ভেটেরিনারি শিক্ষা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবকরাও ক্যারিয়ার গঠনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই ভেটেরিনারি শিক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি-

- ভেটেরিনারি শিক্ষা একটা প্রফেশনাল শিক্ষা যা ভেটেরিনারি কাউন্সিল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যেমন-মেডিকেল কাউন্সিল, বার কাউন্সিল ইত্যাদির মত।

- ভেটেরিনারি শিক্ষা এখন মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অনান্য সমমানের পেশার মত সমমান মর্যাদাপূর্ণ একটা পেশা ।

- শেষের দিকের মেডিকেলে পড়ার চেয়ে ভেটেরিনারিতে পড়া অনেক ভাল যা আজ ভুক্তভোগীরাই জানে ।

- ভেটেরিনারির শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতি ছয় মাস পর পর আপনি পাচ্ছেন ১২০০ টাকা করে বৃত্তি যা ব্যতিক্রম ।

- এছাড়া ইন্টার্ণশীপ সময়ে আপনি পাচ্ছেন প্রতিমাসে ১৭০০০-১৮০০০ টাকা যা ভেটেরিনারি ও মেডিকেলেই সম্ভব ।

- একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার হতে হলে তাকে অধ্যয়ন করতে হয়ঃ এনাটমি, হিস্টোলজি, অ্যানিম্যাল সায়েন্স, নিউট্রিশন, পোল্ট্রি সায়েন্স, ডেইরী সায়েন্স, ফিজিওলজি, বায়োক্যামিস্ট্রি, ফার্মাকোলজিও থেরাপিউটিক্স টক্সিকোলজি, প্যাথলজি, প্যারাসাইটোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ব্যাক্টেরিওলজি, ভাইরোলজি, সেরোলজি, এনিম্যাল জেনেটিক্স ও ব্রিডিং, মেডিসিন, সার্জারী, ভেটেরিনারি এপিডিমিওলজি, গাইনীকোলজী ও অবস্ট্রাট্রিক্স, থ্রেরিওজেনোলজি, রেডিওলজী- ল্যামনেস এন্ড সাউন্ডন্যাস, অপারেটিভ সার্জারী, পরিসংখ্যান, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, কৃষি অর্থনীতি, মার্কেটিং, কৃষি সম্প্রসারণ বিদ্যা, ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ প্রভৃতি বিষয়াদি ।

- পড়াশোনার শেষ বছরে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বাইরে ইন্টার্ণশীপের সুযোগ রয়েছে ,যা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক ভূমিকা রাখে ।

বহির্বিশ্বে বৃত্তির দ্রুত সুযোগ ভেটেরিনারির মত অন্য কোনো সাবজেক্টে সম্ভব নয় । দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে যেমন- অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ফিনল্যান্ড, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে সম্মানজনক চাকরির সুযোগ ভেটেরিনারি পেশার ক্ষেত্রে সহজ যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই বোঝা যাবে। এ সব দেশে উন্নত বেতনের লোভনীয় অফার রয়েছে, পদ ও যোগ্যতা অনুযায়ী লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা যায়।

- ভেট গ্রাজুয়েটদের চাকরির বেতন শুরু হয় মূল স্কেল ৩০,০০০-৩৫,০০০ টাকা হতে সাথে কোম্পানীর আরো লোভনীয় সুযোগ সুবিধা যোগ করলে প্রায় ৪৫,০০০-৫০,০০০ টাকা হয়ে যায়।
- বিদেশে বৃত্তি পাওয়া সহজ ভেটেরিনারি হতে যা ইন্টারনেট খুঁজলেই পাওয়া যাবে।

ডিভিএম পাস করার পর যেকোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাইক্রোবায়োলজি,বায়োক্যামিস্ট্রী, ফার্মেসীসহ যে কোনো সাবজেক্টে মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। বিসিএস-এ রয়েছে টেকনিক্যাল ক্যাডার (প্রাণিসম্পদ) শুধুমাত্র নব্য ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য। তাই ভেটেরিনারি থাকতেই পাড়ে ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের শীর্ষে।

লেখক
মুরাদ মোর্শেদ
ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019