www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

মৎস্য বিপ্লবের অগ্রদূত বিএফআরআই

 এগ্রোভিশন ডেস্ক    [ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ১২:০৩   মৎস্য বিভাগ]



শাহরিয়ার আমিন

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত জলাভূমি হ্রাস, বিরুপ পরিবেশের মাঝেও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে মৎস্য সম্পদ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মাছের উৎপাদন ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। যা দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ ভাগ। প্রাণিজ প্রোটিনের প্রায় ৬০ ভাগ আসে এই মৎস্য সম্পদ থেকে। বাংলাদেশ আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ১ম, তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বিশ্বে ৩য় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থানে রয়েছে। দেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আঁতুড়ঘর হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরিখে গবেষণা পরিচালনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ময়মনসিংহে ১০০ একর জমির ওপর জন্ম লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান এটি। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের প্রকৃতি অনুযায়ী (স্বাদুপানি, লোনা পানি, চিংড়ী গবেষণা, নদী, সামুদ্রিক ও মৎস্য প্রযুক্তি) গবেষণা পরিচালনার জন্য ৫টি কেন্দ্র ও ৫টি উপকেন্দ্র রয়েছে। বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে প্রায় ৬ শত ৪৬ জন কর্মরত রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে।


বিএফআরআইয়ের কার্যাবলী
মৎস্য বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন, মৎস্য উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বাজারজাতকরণের জন্য অধিকতর দক্ষ ও অর্থনৈতিক উপায় নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয় সাধন, মৎস্য বিষয়ক সভা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালার আয়োজন করে বিএফআরআই। এছাড়াও দেশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সাধন ও বিভিন্ন সময়ে গবেষণা জার্নাল প্রকাশনায় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমিষের চাহিদা পূরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও গ্রামীন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে বিএফআরআই।


মৎস্যখাতে উল্লেখযোগ্য অবদান
বাংলাদেশে স্বাদুপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে ৬৪ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। বিএফআরআই বিলুপ্তপ্রায় ২০ প্রজাতি (টেংরা, গুতুম, পাবদা, গুলশা, মেনি, ফলি, দেশি সরপুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি আইড়, বাটা, ভাগনা, গনিয়া, কালিবাউস, মহাশোল, চিতল, খলিশা, বালাচাটা) মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। এছাড়াও ৬১টি মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বরিশালে ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম চিহ্নিতকরণ করেছে। ২০১৪ সালে দেশের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ভিয়েতনামী কৈ প্রজাতির খামারে মড়ক লাগে। তিন বছরের গবেষণায় কৈ মাছের রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা। এছাড়াও মাছের ক্ষত রোগ নিরাময়ে ভেষজ কালোজিরার ঔষধি ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে বিএফআরআই। হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রের সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা উপায় নিয়ে গবেষণা এবং উপকূলীয় জলাশয়ে নোনা টেংরা ও পারসে মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছের প্রজনন কাল নির্ণয় করেছে। আর্ন্তজাতিক বাজারে চাহিদা সম্পন্ন কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। মিঠাপানির ঝিনুক থেকে মূল্যবান মুক্তা উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন করেছে। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ নারী ও যুবকেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। আর্ন্তজাতিক বাজারে চাহিদাসম্পন্ন কাঁকড়ার হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন এখানকার বিজ্ঞানীরা। রপ্তানিমুখী চিংড়ির ৭টি রোগ শনাক্তকরণে সফলতা, ১১৭ প্রজাতির সী-উইড শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি যার মধ্যে ১০টি বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন। এর মধ্যে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন তিন প্রজাতির সী-উইড চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদ ওয়েস্টার, ঝিনুক ও শামুকের পুষ্টিমান নির্ণয় করেছে। ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সেবা সহজে খামারিদের দোড় গোঁড়ায় পৌঁছে দিতে ৫টি অ্যাপস ই-ইলিশ, বিএফআরআই ইন কাপ্তাই লেক ইনফো, চিংড়ি স্বাস্থ্য বাতায়ন, ই-কার্প, ও র‌্যাপিড ফিড টেস্ট তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ শুঁটকি তৈরির লক্ষ্যে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী বিএফআরআই মেকানিক্যাল ফিশ ড্রায়ার উদ্ভাবন করেছে।

বিএফআরআইয়ের অর্জন
মৎস্য বিষয়ে এ যাবত ২৪০ টি প্রকাশনা প্রকাশ করেছে বিএফআরআই। এছাড়াও বাংলাদেশ জার্নাল অফ ফিসারিজ রিসার্চ নামে একটি জার্নাল এবং ফিশারিস নিউজলেটার নামে একটি ত্রৈমাসিক প্রকাশনা করছে। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ৮টি স্বর্ণপদক, ৫টি রৌপ্যপদক ও ১টি তাম্রপদক অর্জন করেছে বিএফআরআই।

বিএফআরআইয়ের প্রধান নিবার্হী ও মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মৎস্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অর্জনে বিএফআরআই আরোও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিরলসভাবে গবেষণা করে যাচ্ছে।




 এ বিভাগের আরও


 সভাপতি সুলতান, সম্পাদক হান্নান


 প্রজনন ক্ষেত্রে আগামী ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ


 এক টুনা মাছের দাম ১৩ কোটি


 দেশের সমুদ্র অর্থনীতিতে সমুদ্র শৈবাল চাষ খুবই সম্ভাবনাময়


 সুন্দরবনে নতুন মাছের সন্ধান


 সিকৃবিতে ‘হাওর মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন এবং করনীয়’ শীর্ষক সেমিনার


 এক জালেই ধরা পড়ল সাড়ে ৫ লাখ টাকার মাছ


 মৎস্য বিপ্লবের অগ্রদূত বিএফআরআই


 সিভাসু গবেষণাতরীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী


 জলজ সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে: সিকৃবি ভিসি


 বিদেশে যাচ্ছে নন্দীগ্রামের কুচিয়া মাছ


 বরগুনায় ২০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে পুলিশ


 ইলিশ ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা


 শেষ মুহূর্তে বেপরোয়া হয়ে ইলিশ ধরছেন জেলেরা


 ইলিশ ধরা ও কেনাবেচায় জড়িত ১৪২ জনের কারাদণ্ড





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019