www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

বাংলাদেশে পঙ্গপাল

সব পঙ্গপাল ঘাসফড়িং কিন্তু সব ঘাসফড়িং পঙ্গপাল নয়

 নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:    [ ১ মে ২০২০, শুক্রবার, ১০:১৭   কৃষি বিভাগ]



দেশের নতুন আতংক পঙ্গপাল। আদতে, ঘাসফড়িং (grasshopper) দুই প্রকার, ছোট শিংযুক্ত (short horned) এবং লম্বা শিংযুক্ত (long horned)। এই ছোট শিংযুক্ত প্রজাতীগুলোর ভেতর একটা অংশ যদি ঝাক বেধে বহু স্থান ঘুরে ঘুরে মাত্রাহীন খাদ্যগ্রহন ও প্রজনন করতে থাকে তখন সাধারনত তাকে পঙ্গপাল বলে। কিন্তু শুধু শুধুই কেন ঘাসফড়িংগুলো এই ধরনের আচরন শুরু করবে? উত্তর হচ্ছে, এর পেছনে সেরোটোনিন নামে এক ধরনের হরমোন দায়ী।

পরিবেশগত কারনে যদি এদের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে তাহলে অতিরিক্ত ভীরের মাঝে এরা এক প্রকার উদ্দিপনা পায় এবং এর ফলে মস্তিস্কে সেরোটোনিন এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তখনই এরা ধ্বংসাত্ত্বক রুপ নেয়। তবে ঘাসফড়িংগুলোকে পঙ্গপাল-এ পরিনত করার পরিবেশ ও পরিস্থিতিগত ব্যপারটা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এরা পরিনত অবস্থায় ঝাক বাধে যাকে "সোয়ার্ম" বলে আবার পাখা গজানোর আগেও অপরিনত অবস্থায় দল গঠন করে যাকে "নিম্ফাল ব্যান্ড" বলে। একটি সোয়ার্মে প্রায় ৮০ লক্ষ পঙ্গপাল থাকতে পারে যা দিনে ৩৫০০০ মানুষের খাবারের সমান খাবার খেয়ে নিতে পারে। কাজেই শারীরিক দিক থেকে পঙ্গপাল ও ঘাসফড়িং একই জিনিস, শুধুমাত্র আচরন ভিন্ন। কাজেই, সব পঙ্গপালই ঘাসফড়িং কিন্তু সব ঘাসফড়িং পঙ্গপাল নয়।

এবার কথা বলি বাংলাদেশে পঙ্গপালের আবির্ভাব সম্পর্কে। আমরা এতদিন মরুভুমির যে পঙ্গপালের কথা শুনে আসছি সেটা এই পঙ্গপাল নয় বলেই আন্দাজ করতে পারি। যে ধরনের মহামারীর কথা আপনারা চিন্তা করছেন সেটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেই পরিমান আতংকিত না হতেও আপনাদের অনুরোধ করবো। যে ভিডিওটি দেখেছি সেখানে নিম্ফাল ব্যান্ড দেখা গিয়েছে। এখনো সোয়ার্ম হয়েছে কি না জানা যায় নাই। শুধু মাত্র ছবি দেখে এটা বলা কঠিন যে এরা কোন প্রজাতীর। ট্যাক্সোনমিক ও ফিজিওলজিকাল জ্ঞান ব্যবহার করে পোকাগুলো সরাসরি বিশ্লেষন করতে হবে যে, এরা সাধারন পাতাফড়িং অবস্থায় আছে নাকি পঙ্গপাল এ রুপ নিয়েছে।

পৃথীবিজুরে ১০টিরও বেশী পাতাফড়িং এর প্রজাতী আছে যারা পঙ্গপালে রুপ নিতে পারে। কাজেই সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গুরুত্ত্বপুর্ন। আজকে টেকনাফে কয়েকজন বিজ্ঞানী গিয়েছেন বলে শুনেছি। উনারা নিশ্চই এই নতুন পোকাটি পঙ্গপাল কি না সেটি আমাদের অবহিত করবেন। আমি শতভাগ নিশ্চিত না হলেও এগুলোকে যদি বোম্বে লোকাষ্ট (Nomadacris succincta) বলেই ধারনা করি। তাহলে এশিয়ার জন্য এই প্রজাতীটি নতুন নয়। কাজেই পঙ্গপালগুলো অন্য কোন স্থান থেকে এসেছে নাকি টেকনাফের প্রাকৃতিক পরিবেশেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে সেটাও গবেষনার বিষয়। তবে যে কারনেই পঙ্গপালের দেখা মিলুক না কেন আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

যেহেতু নতুন এবং শুধু মাত্র একটা অঞ্চলে দেখা গিয়েছে তাই সমূলে বিনাশ (ইরাডিকেশন) করাই সবচেয়ে ভাল পন্থা। টেকনাফের নির্দিষ্ট জায়গা জুরে কীটনাশক স্প্রে করে এগুলোকে এমনভাবে ধ্বংশ করতে হবে যেন একটিও জীবিত না থাকে। এ ক্ষেত্রে স্পর্শ ও প্রবাহ দুই প্রকার কীটনাশকই ব্যবহার করতে হবে যেগুলো বাংলাদেশে সহজলভ্য। যদি এগুলো পঙ্গপাল হয়েই থাকে তাহলে খুব দ্রুত ইরাডিকেশন করা না গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই এরা সম্পূর্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তবে আগে এটা নিশ্চিত হই যে, পঙ্গপাল সদৃশ্য পোকাগুলো আসলেই পঙ্গপাল কি না।

লেখকঃ
ড. পিজুস কান্তি ঝাঁ
প্রভাষক, কৃষি বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়




 এ বিভাগের আরও


 বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে চাল আমদানী করা হবেঃ খাদ্যমন্ত্রী


 করোনার প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিখাতে বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবেঃ নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর


 সব পঙ্গপাল ঘাসফড়িং কিন্তু সব ঘাসফড়িং পঙ্গপাল নয়


 আগামীতে দেশে পেঁয়াজের সঙ্কট হবে না: কৃষিমন্ত্রী


 কৃষিযন্ত্র কিনতে বিশেষ ঋণ পাবে কৃষকরা


 রাজশাহীর পদ্মার চরে ৩৭ প্রজাতির পাখি


 শীতে আলু ও বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক


 জামালপুরে তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা


 কমলা চাষে সফল ঝিনাইদহের রফিকুল


 বাগেরহাটে অসময়ে বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি


 কৃষিকে বহুমুখীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী


 ফের মূল্যবৃদ্ধি দেশি পেঁয়াজের


 তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় সবজি মেলা ২০২০’ শুরু শুক্রবার


 যশোরে ধানের দাম কম, জমিতেই পড়ে থাকছে ধান


 কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া, ধান বুনছে যন্ত্র





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019